No icon

কাঁচপুর:

পোশাক শ্রমিক ও পুলিশ সংঘর্ষ, আহত ৩০

কাঁচপুরে একটি পোশাক শিল্প কারখানার শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে পুলিশসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ অর্ধশতাধিক টিয়ার শেল ও ১০ রাউন্ড রাবার বুলেট ছুঁড়েছে।
জানা গেছে, রবিবার সকাল ১০টায় বেতন ভাতা ও অন্য কয়েকটি সুযোগ-সুবিধার দাবিতে কাঁচপুরে সিনহা ওপেক্স গ্রুপের কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এ সময় তারা সড়ক অবরোধের চেষ্টা করে। পরে পুলিশ তাদের সরিয়ে দিতে গেলে এ সংঘর্ষ বাধে।
ওই কারখানার পোশাক শ্রমিকরা জানায়, তারা মাতৃত্বকালীন ছুটি, ছুটিকালীন সময়ে ভাতা, প্রতি মাসের ৮ তারিখের মধ্যে মাসিক বেতন পরিশোধ ও ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে বিক্ষোভ করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ সময় শ্রমিকরা লাঠিসোটা নিয়ে কারখানার প্রধান ফটকের বাহিরে অবস্থান নেয়। তারা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করার চেষ্টা করলে নিরাপত্তাকর্মী ও পুলিশ বাধা দেয়। এক পর্যায়ে শ্রমিকরা গার্মেন্টসের সামনে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে টায়ারে আগুন ধরিয়ে দেয়। শুরু হয় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। পুলিশের লাঠিচার্জ, টিয়ার শেল ও রাবার বুলেটে কমপক্ষে ২০ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন। তাদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
সিনহা গার্মেন্টের শ্রমিক আসাদুর রহমান জানান, তাদের প্রতিমাসে ৮ তারিখের মধ্যে বেতন পরিশোধ করার কথা থাকলেও কর্তৃপক্ষ বেতন পরিশোধ করেন না।
বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা জানান, দাবি গুলো আমাদের দীর্ঘদিনের। মাতৃত্বকালীন ছুটি দাবি করায় অনেক নারী শ্রমিককে কারখানা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা তাদের কাজ বর্জন করে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এর আগেও গত শনিবার সকালে শ্রমিকরা একই দাবিতে বিক্ষোভ করে মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে কারখানা ছুটি দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিকে ওপেক্স গ্রুপের সিনহা গার্মেন্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে পাওয়া যায়নি।
সোনারগাঁ থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুজ্জামান বলেন, সড়ক থেকে শ্রমিকদের সরিয়ে দিতে গেলে তারা ইটপাটকেল ছুঁড়তে থাকে। পরে টিয়ারসেল ও কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট ছোঁড়া হয়। বেলা ১২টা থেকে শ্রমিকেরা কারখানার ভেতরে অবস্থান করছে। যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
শিল্প পুলিশ-৪ এর পুলিশ সুপার বশির আহম্মেদ জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। ১০জন পুলিশ সদস্য এ ঘটনায় আহত হয়েছেন। বর্তমানে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক এবং শ্রমিকরা শান্ত রয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

Comment As:

Comment (0)