Menu
 
       
বাংলাদেশ

পলাশে প্রাথমিকে ভর্তি বাণিজ্য ডোনেশনের নামে নেওয়া হচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা


 
পলাশে প্রাথমিকে ভর্তি বাণিজ্য ডোনেশনের নামে নেওয়া হচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা  9828 
 

নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড উচ্চ বিদ্যালয়ে চলছে প্রাথমিকে ভর্তি বাণিজ্য। বিদ্যালয়টি ডোনেশনের নামে প্রথম শ্রেণীর শিক্ষার্থীর ভর্তি বাবদ ১৫ থেকে ২৫ হাজার টাকা আদায় করছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। আর এসব টাকা সরাসরি আদায় করছে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ম্যানেজিং বোর্ডের সদস্যরা। ডোনেশনের ৬০ ভাগ টাকা ব্যাংক রশিদের মাধ্যমে জমা হলেও বাকি টাকা শিক্ষক ও কমিটির সদস্যদের মাঝে ভাগবাটোয়ারা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এদিকে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে ভর্তি হওয়ার কারণে পড়ালেখায় অমনোযোগী হয়ে পড়ছে বিদ্যালয়ের পাঠদানরত শিক্ষার্থীরা। এতে করে দিনে দিনে কমতে শুরু করেছে বিদ্যালয়টির জিপিএ-৫ ও পাশের হার।
জানা যায়, ১৯৭০ সালে ঘোড়াশাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর কর্মকতা-কর্মচারীর সন্তানদের লেখাপড়ার সুবিধার জন্য প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড উচ্চ বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে শতভাগ পাশসহ বিদ্যালয়টি জিপিএ-৫ ছিল প্রশংসাজনক। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে বিদ্যালয়টির জিপিএ-৫ সহ পাশের হার অনেকাংশে কমে আসে। আর এই ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে ভর্তি বাণিজ্যকেই দায়ী করছে পিডিবির অধিকাংশ চাকুরিজীবিরা। জানা যায়, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং বোর্ড বহিরাগত শিক্ষার্থীদের ভর্তির মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অধিক লাভের আশায় পিডিবির অভ্যন্তরে শিক্ষার্থীদের ভর্তির পরিমাণ কমিয়ে, কমিটির লোকজন বহিরাগতদের প্রতি বেশি নজর দিচ্ছে। শিক্ষার্থী প্রতি ১৫ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করছে। পলাশ নতুন বাজার এলাকার মাহাবুবুর রহমান নামে এক অভিভাবক জানান, আমার ছোট মেয়েকে পিডিবির স্কুলে প্রথম শ্র্রেণীতে ভর্তির জন্য গেলে বিদ্যালয় থেকে ডোনেশন বাবদ পনের হাজার টাকা চাওয়া হয়। পরে অনেক সুপারিশের পর তের হাজার ৬০০ টাকায় ভর্তি করে। এদিকে ভর্তি বিষয় নিয়ে বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সদস্য ফারুকের সাথে কৌশলে কথা বললে, প্রথমে তিনি ভর্তির সময় সূচি শেষ বলে জানালেও এক পর্যায়ে বাইশ হাজার টাকার বিনীময়ে ভর্তি করে দেওয়ার কথা জানায়। এসময় তিনি জানান, চৌদ্দ হাজার ৫০০ টাকা ব্যাংকে জমা নেওয়া হবে বাকি টাকা নেতাদের পিছনে খরচ হবে। তিনি আরো বলেন, রাতে টাকা দিলে সকালেই শিক্ষার্থী ক্লাস করতে পারবে। 
ভর্তি বাণিজ্যের বিষয় নিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমানের সাথে কথা বলতে চাইলে, তিনি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলীর অনুমতি বিহীন এ বিষয়ে কোন কথা বলতে চায়নি। অরদিকে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও ৫,৬ ইউনিট ম্যানেজার হাবিবুর রহমান জানান, অতিরিক্ত অর্থ নেওয়াটা অনেক আগে থেকেই। এসব অর্থ বিদ্যালয়ের উন্নয়নের কাজে ব্যয় করা হয়।
এদিকে ঘোড়াশাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মুঞ্জুরুল আলম দিলুর সাথে কথা বললে তিনি জানান, স্কুলের বিষয় নিয়ে কথা বলা আমার দায়িত্ব না। এটা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কমিটির সভাপতির দায়িত্ব।
পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ভাস্কর দেবনাথ বাপ্পি জানান, ডোনেশন নিয়ে ভর্তির কোন সুযোগ নেই। যদি কোন বিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ভর্তি বাবদ ডোনেশন আদায় করে তবে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আল আমিন মুন্সী
পলাশ, নরসিংদী


71 নিউজ টিভি'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।



71 নিউজ টিভি সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

 

Banner 2